ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার ভোরের এই হামলায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৯১ জন। এছাড়া রাজধানী ও আশাপাশের এলাকায় অন্তত ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে হামলায়।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা তাইমুর তিকাচেঙ্কো জানান, হামলায় রাজধানী ও আশপাশের অন্তত ১৩০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিনিপ্রো নদীর তীরের একটি আবাসিক এলাকা থেকেই ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী কিয়েভ লক্ষ্য করে ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি সামরিক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় থাকায় ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অধিকাংশ আঘাতই ঠেকাতে পারেনি। এই হামলায় আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড ক্রসের একটি গুদাম ধ্বংস হয়ে ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশকো এই হামলায় ৩০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করে আজ শুক্রবার রাজধানীতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে এক বার্তায় এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, কিয়েভের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।